আমেরিকা দেশ একটি খবর পত্রিকা দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল একটি রিপোর্ট বের করেছেন এই রিপোর্টে রয়েছে ফেসবুকের ঘৃণা কথা গুলো ভারতীয় রাজনীতিক দিকে সঙ্গে এক সঙ্গে মিশে গেছে। এই রিপোর্ট এ কি কি বলেছো আর কি উদাহরণ দিয়েছে সবই দেখি। ফেসবুক বর্তমান সরকারের কি খুশি করার জন্য তাদের কোন বড় নেতার ফেসবুকে একজন পোস্ট করে তা সরায় না বা তাদের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে না।

প্রথমে কথা উঠে এসেছে সমস্যার কার্যকর আর কোম্পানির কর্মচারী মধ্যে দুজন দুরকম কথা বলছে। কোম্পানির কর্মচারীরা বলছে ফেসবুক পক্ষপাতী করছে ক্ষমতাশীল দলের। আর সংস্থার কার্যকারিতা বলছে ফেসবুকের কোন দেশে যদি বেশি বড় ব্যবসা থাকে তাহলে বিতর্কমূলক নেতাদেরকে তারা নিষিদ্ধ করবেন না। ফেসবুকের মতে ফেসবুকে কোন বিতর্কমূলক নেতা ঘৃণা পোস্ট করে তাহলে তাকে ব্যান করা হবে না সোজাসুজি বলে দিয়েছেন ফেসবুক। 

উদাহরণ: 

2017 সালে বিজেপির এক এমপি (MAL) রাজা সিংহ ফেসবুকের উপরে একটি পোষ্ট দেই এটি কার্তিক ঘৃণা পোস্ট যা মুসলিমদের বিরুদ্ধে আর কিছুক্ষণের মধ্যেই তা পোস্টটি ভাইরাল হয়ে যায়। তারপরে সেখানকার পুলিশ তার ওপরে FIR করে ওনার সঙ্গে আরেকজনকে করে রাম সেনার প্রমুখ মোতাহিক। 

এরপরে ফেসবুক এর উপর একটি কমিটি বসিয়েছিলো ও তারা রিপোর্ট দিয়েছে, তারা মানলো রাজন সিং যে ফেসবুকে পোস্ট করেছিল সেটি ছিল একটি ঘৃণা পোস্ট আর এটি ফেসবুকের পলিসির বিরুদ্ধে। ফেসবুকের কর্মচারীরা বলল এর ফলে ফেসবুক একাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয় যেন কারণ তিনি এই ধরনের ঘৃণা কথা পোস্ট করতে পারে ও এর ফলে দাঙ্গা ও হতে পারে। তার সত্বেও ফেসবুক রাজা সিং এর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্যান করেনি।

এর শর্ত ফেসবুক বলছে যে ফেসবুকে ঘৃণা পোস্ট করা হয়েছে আর ফেসবুকের নিয়মের বাইরে গেছে কিন্তু এর বিরুদ্ধে কোন ক্রিয়া করা হয়নি। ভারতের ফেসবুক কোম্পানির সর্বোচ্চ পাবলিক পলিসি এক্সিকিউটিভ অ্যঙ্খি দাস তিনি পরিষ্কারভাবে বলে দিলেন ঘৃণা কথা বা ভাষণ নিয়ম রাজা সিংহ এবং আরো তিনটে নেতার ওপর তাদের পলিসি তাদের ওপর লাগাবে না আর এইসব নেতাগুলো ছিল ক্ষমতাশীল দলের বা বিজেপির। তিনি বলে দিলেন তাদের শুধু ব্যবসা করে , কোন দেশে তাদের বেশি বড় ব্যবস্থা থাকে তাহলে সেখানকার ক্ষমতাশীল দলের কোন নেতার ওপরে কোন কার্য করবেনা।

দুই হাজার কুড়ি সালে এপ্রিলে রাখতে খবর রয়েছে আনন্দ কুমার হেগড়ে নামে এটি আরেকটি বিজেপি নেতা তিনি বললেন করোনা ভাইরাস মুসলিমরা সারাবিশ্বে ছড়াচ্ছে আর বললেন এটি করোনা জিহাদ যা গোটা দেশে ছড়িয়ে গেছে এটি এসেছিল ফেসবুকের পোস্ট দারা। কিন্তু এটি ফেসবুকের ঘৃণা পোষ্টের বিরুদ্ধে বিজেপি বলে কোন ধর্মের উপর আপনি সোজাসুজি আক্রমণ করতে পারবেন না। এই পোস্টটি আবার টুইটারও দেওয়া হয়েছে কিন্তু টুইটার হেগড়ে একাউন্ট সঙ্গে সঙ্গেই ব্যান্ড করে দেই কিন্তু ফেসবুক সেই পোষ্টটি বের করে দেই আর সেই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে কোন কিছুই করেননি ফেসবুক।

ফেব্রুয়ারি মাসে দিল্লির দাঙ্গার সময় প্রাপ্তন বিজেপি বিধানকর্তা কাপিল মিশ্রা তিনি একটি ভিডিও আপলোড করেছিল ফেসবুকের উপর। এই ভিডিওতে তিনি পরিষ্কারভাবে বলেছিলেন  CAA  বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদেরকে না করালে নিজের শক্তি দ্বারা তাদেরকে সরিয়ে দিবে সেখান থেকে। কিন্তু ফেসবুক এই ভিডিও পোস্ট টি সরিয়ে দেয় কিন্তু কাপিল মিশ্রা একাউন্ট ব্যান করেনি। এই পোষ্টটি দেওয়ার কিছুক্ষণ মধ্যেই দিল্লিতে দাঙ্গা শুরু হয়ে যায় আর এই জন্য অনেক মানুষ মারা যায়।

মাইনেটি সভার একটি রিপোর্ট আছে যেখানে বলেছে কাপিল মিশ্রা ফেসবুকের ভিডিওটি দাঁড়ায় দিল্লিতে দাঙ্গা শুরু হয়েছিল যার ফলে দিল্লি পুলিশ কিছুই করতে পারেনি ও তাকে অ্যারেস্ট করে নি।

কিছুদিন আগে মার্ক জুকারবার্গ কাপিল মিশ্রা ভিডিও পোস্টটি উদাহরণ হিসেবে দেখিয়েছিলেন যে ফেসবুক এই ধরনের কোন ভিডিও পোস্ট সহ্য করবে না। কিন্তু ফেসবুক কোম্পানির এটি সঙ্গে সঙ্গে পাঠিয়ে দিয়েছিল।

এটার্নিয়াম দেখা যাচ্ছে যে ফেসবুক মিসেস দাসের কথা শুনে বোঝা যাচ্ছে যে যে দেশে ফেসবুক রয়েছে সে দেশের ক্ষমতাসীনদের পক্ষে কোন কাজ করে না। ফেসবুক বুঝতে পারে যে দেশে তার বড় বাজার রয়েছে সে দেশের সরকারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নেই।এটি সোজাসুজি বুঝা যাচ্ছে যে ফেসবুক ভারত সরকারের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। ফেসবুক আর হোয়াটসঅ্যাপ পৃথিবীর মধ্যে সবথেকে বেশি ইউজার রয়েছে ভারতে।

ফেসবুকের ভবিষ্যৎ ভারতে তাদের বিশাল বড় পরিকল্পনা রয়েছে। কিছুদিন আগে এপ্রিল মাসে ফেসবুক বিনিয়োগ করেছে ভারতের টেলিকম অপারেটর জিও সঙ্গে বিনিয়োগ সংখ্যা ছিল প্রায় 5.7 বিলিয়ন ডলার।

ফেসবুক ভারতের শুধু নয় সারা বিশ্বের সরকারের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে তা অনেক উদাহরন দেখা দেয়। আমেরিকাতে অনেকবার ফেসবুকের ওপর দোষারোপ লাগিয়েছে।এর ফলে অনেক বড় বড় কোম্পানি ফেসবুক থেকে আলাদা করে নিয়েছে।

ভিয়েতনামের ফেসবুক একটি বড় লেনদেন করে ভিয়েতনামের সরকারের সঙ্গে। ভিয়েতনামের সরকার বলেছে ফেসবুকে কোন ধরনের ভিয়েতনামে সরকারের বিরুদ্ধে কথা হয় তাহলে সঙ্গে সঙ্গে সরিয়ে নেয়া হবে আর ফেসবুক এর জন্য রাজি হয়ে গেছে।

MORE READ: https://www.wsj.com/articles/facebook-hate-speech-india-politics-muslim-hindu-modi-zuckerberg-11597423346